মহান আল্লাহপাক
পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই যারা ঈমান
এনেছে
এবং নেক আমল করেছে তারাই সমগ্র সৃষ্টির সেরা। পরকালীন
চিরস্থায়ী জীবনে ঈমান ও নেক আমলের ভিত্তিতেই
মানুষের মূল্যায়ন হবে। যাদের কাছে ঈমানের সম্পদ এবং নেক আমলের
সম্বল থাকবে তারাই আখেরাতে সফলকাম হবে। ঈমান ও নেক আমল যত বেশি হবে, আখেরাতে
তার মর্তবাও তত বেশি হবে। যেহেতু এ আয়াতে ঈমানদার ও নেক্কার লোকদের
উত্তম সৃষ্টি,
সেরা সৃষ্টি এবং শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর দ্বারা
এ কথা প্রমাণিত হয় যে,
আল্লাহপাকের দরবারে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ
বিশেষ মর্তবার অধিকারী ফেরেশতার চেয়েও উত্তম। আর সাধারণ মানুষ তথা ঈমানদার ও
নেক্কার মানুষ সাধারণ স্তরের ফেরেশতার চেয়ে উত্তম। আর যারা গোনাহগার
মোমেন যখন তারা মাগফিরাত লাভে ধন্য হবে, অথবা শাস্তি ভোগ করার মাধ্যমে
তাদের গোনাহ থেকে পবিত্র করা হবে, তখন তাদের নেককার
মুমিনদের সঙ্গে
একত্রিত করা হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর এই
অবস্থায় তারা সাধারণ ফেরেশতার চেয়ে উত্তম
বিবেচিত হবে। [তাফসিরে মাযহারি]
আল্লাহপাক অন্যত্র
ইরশাদ করেছেন,
তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কার
চিরস্থায়ী জান্নাত,
যার তলদেশে শরবতের নহরসমূহ প্রবাহিত। আর এটিই প্রতিপালকের
দরবারে তাদের প্রতিদান। যারা এ জীবনে আল্লাহপাকের যাবতীয় বিধান মেনে চলে, তাকে ভয়
করে জীবনযাপন করে,
তার যাবতীয় নাফরমানি থেকে সদা সর্বদায়
আত্মরক্ষা করে চলে,
আখেরাতে তারাই এই সৌভাগ্য লাভে ধন্য হবে। জান্নাতের
অনন্ত অসীম নেয়ামতের পাশাপাশি সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত যা জান্নাতবাসী লাভ করতে
সক্ষম হবে তা হলো মহান আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি। এ পর্যায়ে হজরত আবু সাঈদ
খুদুরি (রা.)-এর একটি হাদিস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাসুলে কারিম (সা.)
ইরশাদ করেছেন,
আল্লাহপাক জান্নাতবাসীদের এভাবে ডাক দেবেন যে, ‘হে জান্নাতবাসী, তখন
জান্নাতবাসীরা জবাব দেবেন,
হে মালিক আমরা আপনার দরবারে হাজির আর
সব কল্যাণ তোমারই হাতে। তখন আল্লাহপাক ইরশাদ করবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট
হয়েছ? জান্নাতবাসী
আরজ করবেন,
হে পরওয়ারদিগার আমাদের অসন্তুষ্ট হওয়ার
কোনো কারণ নেই,
কেননা তুমি আমাদের এমন নেয়ামত দান করেছ, যা ফেরেশতাদেরও
দান করনি।’
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার মর্জি মোতাবেক চলার তৌফিক দান
করুন। আমিন।



No comments:
Post a Comment